রাজশাহীর ইজারাদারের কুষ্টিয়ার পদ্নার চরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ
হিসনা বাণী প্রতিবেদক।।কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পদ্মা নদীর ‘ডেঞ্জার জোন’ এলাকা থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে প্রভাবশালী একটি চক্র। রাজশাহী, পাবনা, নাটোর ও কুষ্টিয়া জেলার প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ীদের নেতৃত্বে এই চক্রটি প্রশাসনিক বাধা উপেক্ষা করে বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছে ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নের চৌদ্দহাজার মৌজাতে।
হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বালু উত্তোলন
২০২২ সালে একটি রিট পিটিশনের ভিত্তিতে হাইকোর্ট কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী ও পাবনা জেলার পদ্মা নদীর অন্তর্ভুক্ত স্থানে ফিলিং ও মোটা বালির ঘাটগুলো থেকে বালু উত্তোলনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। হাইকোর্টের সেই আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, কোনো ধরনের সুস্পষ্ট আইনি অনুমতি ছাড়া এসব এলাকায় বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ অবৈধ।
প্রশাসনিক অভিযানেও থেমে নেই উত্তোলন
গত ৫ আগস্ট প্রশাসনের অভিযান ও কঠোর নজরদারির কারণে দৌলতপুরের ফিলিপনগর, মরিচা এবং রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নে বালু উত্তোলন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়েছিল। তবে সম্প্রতি আবারও মরিচা ইউনিয়নের চৌদ্দহাজার মৌজায় ড্রেজার, বলগেট ও বালিবাহী নৌকা দিয়ে মোটা বালু উত্তোলন শুরু করেছে রাজশাহীর মেসার্স সরকার ট্রেডার্স নামক একটি প্রতিষ্ঠান।
রাজশাহীর ইজারাদার কুষ্টিয়ায় কেন?
তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহীর বাঘা উপজেলার গড়গড়ি ইউনিয়নের মৃত বাচ্চু সরকারের ছেলে এস.এম. সালাউদ্দীন আহমেদ শামীম সরকারের নেতৃত্বে চলছে এই অবৈধ কার্যক্রম। “মেসার্স সরকার ট্রেডার্স”-এর নামে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার লক্ষীনগর মৌজায় ২৪ একর আয়তনের একটি বৈধ বালুমহাল ইজারা নিলেও, তারা কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী চরাঞ্চলে এসে বালু উত্তোলন করছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ
মরিচা ইউনিয়নের চৌদ্দহাজার মৌজা ও ফিলিপনগরের ভিমিরদিয়াড় এলাকার একাধিক জমি মালিক অভিযোগ করেন, হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তাদের জমির সামনে থেকে প্রতিনিয়ত অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে জমির ক্ষতি ছাড়াও নদীভাঙনের ঝুঁকি বেড়েছে বহুগুণে। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ
এলাকাবাসী ও জমির মালিকদের জোর দাবি—দ্রুত এই অবৈধ বালু উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। পাশাপাশি হাইকোর্টের আদেশ যথাযথভাবে কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মেসার্স সরকার ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী এস,এম এখলাস আহমেদের সাথে মুঠোফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের সাথে মুঠোফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, স্টান্ডিং অর্ডার আমার ইউএনওদের দেওয়া আছে এবং আমরা এ ব্যাপারে সিরিয়াস। যদি এরকম অবৈধভাবে কেউ যদি এরকটা করে থাকে আমাদের শক্ত অবস্থানটা সব সময়ই আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।